• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ।। আব্দুল্লাহ আল হেলাল

Reporter Name / ২২ এই পর্যন্ত দেখেছেন
আপডেট : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬




মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানোর স্মৃতি, বাবার জনসেবার আদর্শ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এক জীবন কথা।

শাহীন আলামিন বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি।

মানুষের জীবনের সার্থকতা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন কিংবা রাজনৈতিক পদ-পদবিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের কল্যাণে কতটা অবদান রাখা যায়, তার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত মূল্য নিহিত। মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময় থেকে শুরু করে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক পথচলায় নানা অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছেন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সারমারা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল হেলাল। মুক্তিযুদ্ধের সময় শৈশবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা, বাবার জনসেবামূলক কাজ থেকে পাওয়া শিক্ষা, রাজনৈতিক জীবনে মামলা-কারাবাস এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে তাঁর দীর্ঘ জীবনকথা।

১৯৬১ সালের ১ জুন তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার জামালপুর মহকুমার দেওয়ানগঞ্জ থানার সারমারা মিয়া বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল হেলাল। তাঁর বাবা মরহুম মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন মিয়া (খুশু কমান্ডার) ছিলেন এলাকার পরিচিত সমাজসেবী ও মানুষের উপকারে নিবেদিত একজন ব্যক্তি। ছোটবেলা থেকেই বাবার মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও জনকল্যাণমূলক চিন্তাভাবনা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় শৈশবেই মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আব্দুল্লাহ আল হেলালের বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। বয়স কম হলেও দেশের স্বাধীনতার জন্য কিছু করার প্রবল ইচ্ছা ছিল তাঁর। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনসহ কয়েকজনের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বয়স কম হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তবে অস্ত্র হাতে যুদ্ধে যেতে না পারলেও মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় নিজেকে যুক্ত রাখেন তিনি। সারমারা বাজারে একটি মুদির দোকান চালু করে সেখান থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহযোগিতা করতেন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আব্দুল্লাহ আল হেলাল জানান, যুদ্ধের প্রায় সাত মাস পর এক বিকেলে দোকান খোলার পর কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সারমারা বাজারে এসে তাঁর বাবা আমজাদ হোসেন মিয়া (খুশু কমান্ডার)কে বলেন, তাঁরা টানা তিন দিন প্রায় না খেয়ে রয়েছেন। বিষয়টি শুনে তাঁর বাবা নিজের শরীরের চাদরটি বটগাছের নিচে বিছিয়ে দেন। এরপর দোকান থেকে মুড়ি, চানাচুর ও হক বিস্কুট এনে তাঁদের খেতে দেন।

এরই মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা নাছির কোম্পানির অধিনায়ক মো. নাছির তাঁর দোকানের পেছনে এসে আব্দুল্লাহ আল হেলালকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমার বাবা তালোই সাহেব কোথায়? পরে তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করে নাছির বলেন, ‘তালোই সাহেব, আপনি কি জানেন না, ওরা আপনাকে ধরতে এসেছে? আপনার নামে রিপোর্ট আছে, আপনি পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।’

তখন তাঁর বাবা বলেন, এ কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি কখনোই এমন কাজ করেননি।

পরে নাছির হেলাল কোম্পানিকে ডেকে বলেন, তুই যাকে ধরতে এসেছিস, তিনি আমার তালোই। ইনি আমজাদ হোসেন মিয়া। হেলালের বড় আর কোনো ছেলে সন্তান নেই।

তখন হেলাল কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধারা সবাই বলে ওঠেন, ‘তালোই, আপনার কোনো ভয় নেই। আমরাও আপনার ছেলের মতো।

কিছুদিন পর হঠাৎ তাঁদের দোকানে এসে বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেন (মনু) মিয়া আব্দুল্লাহ আল হেলালের কাছে তাঁর বাবার কথা জানতে চান। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ‘দুলাভাই কোথায়?’ এরপর তাঁর বাবাকে বলেন, কর্নেল তাহের সাহেব আপনাকে ধানুয়া ক্যাম্পে দেখা করতে বলেছেন।

তখন তাঁর বাবার সঙ্গে ধানুয়া ক্যাম্পে কেউ যেতে চাইছিলেন না। এমন সময় মোঃ আন্ডার ব্যাপারী এসে বলেন, তিনি যাবেন। পরদিন তাঁর বাবা ও আন্ডার ব্যাপারী ধানুয়া ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হন।

পথে রাস্তার পাশের একটি আমগাছ থেকে একজন নেমে এসে বলেন, ‘সিপাহী পেয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বাবা ও আন্ডার ব্যাপারীসহ দুজনের চোখ বেঁধে ফেলা হয় এবং কর্নেল তাহের সাহেবকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেন (মনু) মামাকে পাঠানো হয়। পরে তিনি কর্নেল তাহেরকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান।

কর্নেল তাহের সাহেব তাঁর বাবার সঙ্গে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা কথা বলেন। কথা শেষে তিনি তাঁর বাবাকে বলেন, প্রায় সাত মাস ধরে গরুর মাংস ও মহিষের মাংস খাওয়া হয়নি। তিনি আগামী বুধবার তাঁদের বাড়িতে যাবেন।

এর আগের দিন মঙ্গলবার রাতে কামালপুরের দক্ষিণ পাশে উঠানোপাড়া সড়কে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে নাছির কোম্পানি ও হেলাল কোম্পানির একযোগে তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধ শেষে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা আমাদের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সে সময় তাঁরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন।

সকালে কর্নেল তাহের সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে মনোয়ার হোসেন (মনু) মামা তাঁদের বাড়িতে আসেন। এসে দেখেন, ২৫ থেকে ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা বাড়িতে অবস্থান করছেন। তখন কর্নেল তাহের সাহেব মুক্তিযোদ্ধাদের বলেন, তাঁদের কোনো ভয় নেই। এরপর বাঁশঝাড়ের নিচে একটি জলচৌকিতে বসে পড়েন।

কিছুক্ষণ পর তিনি টেলিফোনে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন। তখন আব্দুল্লাহ আল হেলাল কর্নেল তাহের সাহেব ও মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেন (মনু) মামাকে খাবার দেন। তাঁর বাবাকে দেখতে না পেয়ে কর্নেল তাহের সাহেব তাঁর কাছে বাবার কথা জানতে চান। তখন তিনি বলেন, ‘আগের দিনের দই ভালো ছিল না, তাই বাবা আপনাদের জন্য আবার ফজরের নামাজ পড়ে দই আনতে গেছেন ।

কর্নেল তাহের সাহেব দুই চামচ ভাত ও মাংস খেয়ে নেন। খাবারের মধ্যেই তাঁর বাবা কাঠের হাঁড়িতে দই নিয়ে ফিরে আসেন। পরে তাঁরা সেই দই খেয়ে নেন। খাবারের কিছুক্ষণ পর তাঁরা চলে যান। দুপুরের দিকে বাকি মুক্তিযোদ্ধারাও নিজেদের হাতে খাবার নিয়ে খেয়ে চলে যান।

এর প্রায় দুই মাসের মধ্যেই, ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর, মুক্তিযোদ্ধারা ধানুয়া-কামালপুর ক্যাম্প দখল করেন। কঠিন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষুধা মেটানোর সেই ঘটনা আজও তাঁর স্মৃতিতে অমলিন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছির, কর্নেল তাহের, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেন (মনু) মামাসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে তাঁদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন সময়ে তাঁদের বাড়িতে আসতেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হতো।

একপর্যায়ে তাঁর বাবা পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার অভিযোগের মুখোমুখি হন। তবে কোম্পানি কমান্ডার নাছির মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাঁদের পরিবারের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে তাঁর বাবার পক্ষে অবস্থান নেন। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেন (মনু) মিয়ার মাধ্যমে তাঁর বাবা মেজর তাহেরের সঙ্গে দেখা করার বার্তা পান বলে জানান হেলাল। মুক্তিযুদ্ধের এসব স্মৃতি তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বাবার জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত

আব্দুল্লাহ আল হেলালের জীবনে তাঁর বাবা মরহুম মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন মিয়ার প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজে তাঁর বাবার অবদান আজও স্মরণ করেন পরিবারের সদস্যরা।

হেলালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে গ্রাম সরকার গঠিত হলে তাঁর বাবা সারমারা গ্রামের গ্রাম সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল মাজেদ সৌদি আরবে চলে গেলে প্রায় চার বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

এলাকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে তাঁর বাবার অবদানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সারমারা হাসপাতালের জন্য ২৪ কাঠা জমি দান। এ ছাড়া বকশীগঞ্জ থানা প্রতিষ্ঠার জন্য ৬০ কাঠা জমি বিক্রি করে সেই অর্থ দান এবং নিলক্ষিয়া ফাতেমুন মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় সদস্য হিসেবে জমি বিক্রি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন আব্দুল্লাহ আল হেলাল।

বাবার এসব জনকল্যাণমূলক কাজই তাঁকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক জীবনের শুরু ও সাংগঠনিক দায়িত্ব

সামাজিক কাজের পাশাপাশি ধীরে ধীরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন আব্দুল্লাহ আল হেলাল। তিনি বলেন, যুব সংগঠনের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পথচলার শুরু। তিনি প্রথমে ইউথ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে জাগদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন বলে তাঁর জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে।

পরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ১৯৮৪ সালে ২ নং বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই সময়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি উপজেলা আনসার কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে তিনি ২ নং বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় কাজ পরিচালনা, নেতা-কর্মীদের সংগঠিত রাখা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম চালু রাখতে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনে নিজের সম্পদ ব্যয়ের কথাও জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল হেলাল। তাঁর স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, বেলুয়ার চর মৌজায় এক বিঘা এবং রমরমাপুর মৌজায় প্রায় তিন বিঘা জমি বিক্রি করে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাজে অর্থ ব্যয় করেন তিনি।

মামলা-কারাবাসেও থেমে থাকেনি রাজনৈতিক পথচলা

রাজনৈতিক জীবনে নানা সমস্যার মুখোমুখিও হতে হয়েছে তাঁকে। আব্দুল্লাহ আল হেলালের বর্ণনা অনুযায়ী, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মাজেদের মৃত্যুর পর তাঁর জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে নাশকতার মামলায় তাঁকে আটক করা হয়। পরে দীর্ঘদিন জামালপুর জেলা কারাগারে থাকতে হয়।

সে সময় দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা ও খোঁজখবর না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর। রাজনৈতিক জীবনের এই অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তবে নানা সমস্যার মধ্যেও দলের সাংগঠনিক কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি বলে জানান তিনি।

রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ড

রাজনীতির বাইরেও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজে যুক্ত ছিলেন আব্দুল্লাহ আল হেলাল। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যাকের বিভিন্ন কার্যক্রম, কৃষি ও প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, আনন্দ স্কুল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কাজে সহযোগিতা করেছেন তিনি।

এ ছাড়া ত্রাণ বিতরণ, মানবাধিকারসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ, মসজিদ-মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষাকে তিনি গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

তাঁর মতে, সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, ভালো সম্পর্ক, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে রাজনৈতিক দায়িত্বে

বর্তমানে আব্দুল্লাহ আল হেলাল ২ নং
বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে তিনি জানান।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখাই তাঁর লক্ষ্য। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সামাজিক সম্প্রীতি ও মানুষের পারস্পরিক সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বাবার আদর্শই জীবনের প্রেরণা

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল হেলালের জীবনকথায় রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, পারিবারিক শিক্ষা, রাজনৈতিক সংগ্রাম, ব্যক্তিগত ত্যাগ এবং সামাজিক দায়িত্বের নানা অধ্যায়। মাত্র ১০ বছর বয়সে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা থেকে শুরু করে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা সমস্যার মুখোমুখি হওয়া—সবকিছুই তাঁর অভিজ্ঞতার অংশ।

সরাসরি অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে না পারলেও মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহযোগিতা করার স্মৃতি তাঁকে আজও অনুপ্রাণিত করে। অন্যদিকে বাবার জনসেবামূলক কাজ তাঁর জীবনে মানুষের কল্যাণে কাজ করার শিক্ষা হিসেবে কাজ করেছে।

জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তাঁর প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার, সামাজিক সম্প্রীতি ও এলাকার উন্নয়নে সবাইকে কাজ করতে হবে। নিজের অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য দিয়ে আগামী দিনেও মানুষের পাশে থাকতে চান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল হেলাল।


একটু পড়ুন
https://slotbet.online/