জামালপুরের বকশীগঞ্জে চোখের চিকিৎসার জন্য অসহায় বৃদ্ধা মোছা. জেলাহা বেগমকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পূর্ব টাংগারী পাড়া স্বাধীন বাংলা যুব উন্নয়ন ক্লাব’।
বুধবার (২১ অক্টোবর) উপজেলার ২ নং বগারচর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মধ্য টাংগারী পাড়ায় ওই বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে তাঁর চোখের চিকিৎসার জন্য এ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন সংগঠনের সদস্যরা।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছেন জেলাহা বেগম। এ জন্য তিনি বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে ময়মনসিংহে নিয়ে চোখের অস্ত্রোপচার করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাড় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। পরে তিনি আর্থিক সহায়তা চেয়ে পূর্ব টাংগারী পাড়া স্বাধীন বাংলা যুব উন্নয়ন ক্লাবের কাছে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটি তাঁর পাশে দাঁড়ায়।
আর্থিক সহায়তা পেয়ে মোছা. জেলাহা বেগম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছি। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিয়েছি। চিকিৎসক বলেছেন, ময়মনসিংহে গিয়ে চোখের অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু আমার আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় চিকিৎসা করানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। সংগঠনটির কাছে আবেদন করার পর তারা আমার বাড়িতে এসে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করেছে। এই সহযোগিতা পেয়ে আমি অনেক খুশি ও আনন্দিত। সংগঠনের সব সদস্যের জন্য দোয়া করি, তাঁরা যেন সব সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা করতে পারেন।
সংগঠনটির সভাপতি মোঃ গোলাপ হোসেন বলেন, ‘আমরা সব সময় নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করার চেষ্টা করি। মানবিক কর্মকাণ্ডে আমাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ। সরকারি সহযোগিতা ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের পাশে দাঁড়ালে আরও বড় পরিসরে অসহায় মানুষের পাশে থেকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে পারব। আমাদের সংগঠন যেন সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারে, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’
উল্লেখ্য, যুবসমাজকে সংগঠিত করে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার লক্ষ্যে ২০২৩ সালে পূর্ব টাংগারী পাড়া স্বাধীন বাংলা যুব উন্নয়ন ক্লাবের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জামালপুর থেকে সরকারি নিবন্ধন লাভ করে সংগঠনটি। এর নিবন্ধন নম্বর জাম-৯৩/বকশীগঞ্জ-০৭ এবং ক্রমিক নম্বর ৯৩।
সংগঠনটির সদস্যরা জানান, সরকারি নিবন্ধন পাওয়ার পর থেকে তাঁদের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুবসমাজকে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, সামাজিক উন্নয়ন এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চান তাঁরা।
https://slotbet.online/